Bangla24x7 Desk: Muktidhara Prakalpa : ‘মুক্তির আলো’ দিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা রাজ্যের। রাজ্যের প্রান্তিক মানুষদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের গ্রামীণ সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ। স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে বেকার যুব সম্প্রদায়কে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আওতাভুক্ত করে স্বনির্ভর যোজনার আওতাভুক্ত করাই লক্ষ্য। মহিলাদের স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে রাজ্য সরকারের নতুন উদ্যোগ মুক্তিধারা প্রকল্প। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের নটি জেলায় মুক্তিধারা প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা। আর্থিক প্রতিবন্ধকতা থেকে পিছিয়ে পড়া সমাজকে মুক্তির পথ দেখাবে মুক্তিধারা। কর্মহীন যুব সমাজকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আওতাভুক্ত করে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলাই লক্ষ্য।
প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল ২০১৩ সালের ৭ ই মার্চ। প্রথম পুরুলিয়া জেলায় মুক্তিধারা গঠন করা হয়। ছোটখাটো স্বনির্ভর গোষ্ঠী সে সেই গোষ্ঠীগুলির সদস্যদের স্বনির্ভরতা প্রদান করা , স্বনির্ভর গোষ্ঠী যেগুলি মুক্তিধারা প্রকল্পের আওতায় পড়ে তাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়াই লক্ষ্য। ইতিমধ্যে যে সমস্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে তাদের ঋণের উপর ব্যাংকে লাগু করা চলতি সুদের অপর সর্বাধিক ৯ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করবে সেই মুক্তিধারা প্রকল্প। ‘মুক্তিধারা’ প্রকল্পের ভাবনা ভীষণ ভাবে সুদূরপ্রসারী কারণ স্বনির্ভর হওয়ার প্রথম এবং প্রধান লক্ষণই হল নিজে শিক্ষিত হয়ে, সেই শিক্ষাকে উপার্জনের কাজে লাগানো। ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১০৯টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ব্যাঙ্ক ঋণ মঞ্জুর করেছিল এবং ৯২টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী প্রায় ৭৫৮৫ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ পেয়েছিল। এই পরিসংখ্যান শুধু মাত্র পুরুলিয়ার বলরামপুর এবং পুরুলিয়া-১ ব্লকের।
Muktidhara Prakalpa : ‘মুক্তির আলো’ দিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা রাজ্যের
Read More: Rupashree Scheme : মেয়েদের বিয়েতে ২৫,০০০ টাকা দিচ্ছে রাজ্য
স্বনির্ভর করে তোলার উদ্দেশ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে প্রাণী সম্পদ পালন, মৎস্যচাষ, গারমেন্ট মেকিং, টেলারিং সহ প্যাকেজিং, কাগজের ব্যাগ প্রস্তুত, ক্যাটারিং, পাটের ব্যাগ, কৃত্রিম গয়না প্রস্তুত ইত্যাদি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোবাইল রিপেয়ারিং, ট্যালি ও জিএসটি সংক্রান্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, হসপিটালিটি ও ট্যুরিজমের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া মোটরগাড়ি ড্রাইভিং এবং রিপেয়ারিং, টিভি, ফ্রিজ, এসির কাজেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ‘মুক্তিধারা’ প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হবে ‘আদর্শ গ্রাম’। কিন্তু এই আদর্শ গ্রামের ভাবনা কী? খামার অথবা ক্ষুদ্র প্রকল্প ইত্যাদি স্থাপনে সহায়তা করে, ক্লাস্টারভিত্তিক কার্যকলাপ এবং উৎপাদিত দ্রব্য বিপণনে সাহায্য করাই এর মূল উদ্দেশ্য। যে জেলাগুলিকে ‘মুক্তিধারা’ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, সেগুলি হল- উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া।
প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে:মুক্তিধারা প্রকল্প
