Bangla24x7 Desk: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক ও জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদে সচেতনতা বাড়াতে মহিলাদের নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ। পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রসারে মহিলাদের সামনে রেখে শুরু ‘কৃষি সখী’। কীভাবে প্রাকৃতিক জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যায় তা নিয়ে মহিলাদের প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ শেষে নিজেদের এলাকায় গিয়ে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলবেন তাঁরা। শুধু তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ নয়, রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে কীভাবে চাষ করা যায়, তা হাতেকলমেও শেখানো হচ্ছে প্রশিক্ষণার্থীদের।
উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে দক্ষিণ দিনাজপুর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের মাঝিয়ান ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ। জেলার আটটি ব্লক থেকে মোট ৬০ জন মহিলাকে ‘কৃষি সখী’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে জেলার চারটি ব্লকের ৩০ জন মহিলা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ‘কৃষি সখী’দের প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য সঠিক চাষাবাদে উৎসাহ দেওয়া। উন্নতমানের বীজ নির্বাচন থেকে শুরু করে মাটি ও ফসলের পরিচর্যা, পোকা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক উপায়ে ফসলের সুরক্ষা – একাধিক বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ নয়, রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে কীভাবে চাষ করা যায়, তা হাতেকলমেও শেখানো হচ্ছে প্রশিক্ষণার্থীদের।
Krishi Sakhi: পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রসারে চালু নতুন উদ্যোগ
Read More: Krishi Sakhi: পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রসারে চালু নতুন উদ্যোগ
প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট মহিলারা নিজেদের এলাকায় গিয়ে কৃষকদের প্রাকৃতিক চাষের সুফল সম্পর্কে সচেতন করবেন। পাশাপাশি কৃষকদের সরকারি প্রকল্প, সুযোগ-সুবিধা এবং কৃষি পরিষেবা সম্পর্কেও অবগত করবেন তাঁরা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার আটটি ব্লকে প্রায় ৩ লক্ষ ১০ হাজার কৃষক রয়েছেন। জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল ধান, পাট, গম ও বিভিন্ন ধরনের সবজি। জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়। খরার মরশুমে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়। এছাড়া প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি এবং প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। কৃষিকাজে আধুনিকীকরণ ও কৃষকদের সহায়তার জন্য জেলায় ‘ফার্ম মেকানিজম স্কিম’-ও চালু হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামস্তরে খামার ও কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যাঙ্ক তৈরিতে কৃষকদের সহযোগিতা করবে রাজ্য সরকার। ফলে ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার সুযোগ পাবেন কৃষকরা।
